এই লেখাটির আগের লেখায় গাড়ি কেনার আগে যে বিষয়গুলির দিকে আলোকপাত করতে হয় সেই দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছিল।গাড়ি কেনার পরের অভিজ্ঞতা এবারের লেখাটিতে ততুলে ধরব। যে দিকগুলো তুলে ধরেছিলাম সেই দিকগুলোর বাহিরের কিছু দিকের দিকে যেমনঃ গাড়ির ব্রান্ডনেম, উৎপাদনসন, কোথায় এবংকিভাবে গাড়িটি কিনতেছেন  সেই দিকে আলোকপাত করা জরুরী।  এখানে  উল্লেখ্য যে, গাড়িটিকে ব্যক্তিগত ব্যবহার,ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নাকি ড্রাইভিং বা মেকানিক অভিজ্ঞতার জন্যে কেনা হচ্ছে  তা বিবেচনা করা দরকার। এসব ব্যাপার মাথায় রেখে আমার গাড়ি কেনার পরের অভিজ্ঞতা এবারের লেখাটিতে ততুলে ধরব।

    গাড়িঃপুরাতন গাড়ির সব কিছুই পুরাতন, তবে পুরান গাড়িকে কিছুটা হলেও নতুন গাড়ির মত চালানো যায়।এখানে যদি আমার গাড়ির ব্রান্ডনেম লিখি তা হলে লেখাটি কোন একদিকে কেন্দ্রীভূত হবে, তাই  গাড়ির ব্রান্ডনেম না লিখে সাধারন পুরাতন গাড়ি নিয়ে লিখছি।


    ইঞ্জিনঃVVTI ও EFI ইঞ্জিন বেশিরভাগ গাড়িতে দেখা যায়।হঠাৎ ইঞ্জিন চালু না হলে নিম্নলিখিত  উপায়ে এই দুই ধরনের ইঞ্জিন চালু করা যেতে পারেঃ

    -ব্যাটারির ভোলটেজ চেক করাঃ পূর্ণ চার্জ বলতে বোঝায় ব্যাটারির ভোলটেজ ১২.৫০ তবে ভোলটেজ ১২ বা এর চাইতে বেশি হলেই গাড়ি চালু হবে। ভোলটেজ ১২ বা এর চাইতে কম হলে ব্যাটারি পুনরায় কমপক্ষে ৫-৬  ঘন্টা চার্জ  দিয়ে চেক করতে হবে ভোলটেজ ১২.৫০ এর বেশি উঠে কিনা।পূ্র্ন চার্জ দিয়ে  চালু করে দেখতে হবে ভোলটেজ ১২ এর নিচে নেমে যায় কিনা, গাড়ি চালু করার সময় যদি ভোলটেজ ১২ এর নিচে নেমে যায় তা হলে ব্যাটারি মেরামত করতে হবে অথবা পরিবর্তন  করতে হবে।তবে কিছু  ইঞ্জিন  গাড়ি চালু করার সময় যদি ভোলটেজ ১২ এর নিচে নেমে যায় তাতেও গাড়ি চালু হবে, তবে ১১ এর নিচে নেমে গেলে গাড়ি চালু হবে না এবং ব্যাটারি মেরামত করতে হবে অথবা পরিবর্তন  করতে হবে।

    গাড়ি কেনার সময় গাড়ির দামের দিকে খেয়াল রেখে ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কাগজে ব্যাটারির মেয়াদ কতদিন আছে সে দিকে আলোকপাত করা যেতে পারে।ব্যাটারি সম্পর্কে কম অভিজ্ঞতা থাকলে লিড এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা উচিৎ।

    ফুয়েল লাইন চেক করাঃসি এন জি চালিত গাড়িতে সি এন জি সিলিন্ডার থেকে শুরু করে কার্বুরেটর  পর্যন্ত চেক করা যেতে পারে। প্রতিবার ইঞ্জিন চালু করে এই পরীক্ষাগুলো করা যেতে পারে। খুব সহজ পরীক্ষা  হচ্ছে  স্পার্ক প্লাগ তুলে কম্প্রেসন চেক করা,  Compression Tester দিয়ে Compression optimum লেভেল-10 বা 150 এর আসে পাসে আছ কিনা  তা চেক করা যায়।স্পার্ক প্লাগে টেস্টার লাগালে টেস্টার লাইট জলে কিনা তা চেক করে স্পার্ক প্লাগের হাল হলিকত জানা জায়  । এছাড়াও হাতের আঙ্গুল স্পার্ক প্লাগ  লাইনে ঢুকিয়ে এয়ার/ফুয়েলের প্রবাহ আছে কিনা চেক করে করা যেতে পারে  , তবে এতে কোন তেল বা পানির উপস্থিতি  থাকলে গাড়ি  চালু হওয়ার শব্দ করলেও  স্পার্ক  করতে পারবে না, গাড়ি চালু হবে না। আর একটি দিক  খুব গুরুত্বপূর্ন তা হচ্ছে  ডিস্ট্রিবিউটরের টাইমিং, এতে টাইমিং সঠিক না হলে গাড়ি চালু হওয়ার শব্দ করবে, স্পার্ক করবে তবে গাড়ি চালু হবে না।বিভিন্ন  ডিভাইসের মাধ্যমেও নিম্নলিখিত দিকগুলো চেক করা যেতে পারে।এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে সমস্যা নির্নয় করে চিহ্নিত অংশে মেরামত বা নতুন পার্টস সংযোজন করলে সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যাবে।

    Coolant pressure Check: Coolant pressure optimum level হচ্ছে 13-16 psi, এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে রেডিয়েটর ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা জানা জায়।রেডিয়েটর ঠিকমত কাজ করা বা  ইঞ্জিন গরম হওয়ার বিযয়টি অনেকংশে কুলেন্ট ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। বেশি সমস্যা হলে গেসকেট পরিবর্তন করতে হবে।

    Air/fuel ratio Check: Air/fuel ratio reading অনেকটা এরকম-min 12:1, optimum 14.7:1।এটির মাধ্যমে  এয়ার ও জ্বালানির প্রবাহ ও অনুপাত optimum হয় কিনা  তা জানা জায়।

    Digital Fuel/Gas pressure Check: সাধারন Digital Fuel/Gas pressure  reading  হচ্ছে  6-30 psi।এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে  গ্যাসের  প্রবাহ ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা জানা জায়।

    Engine oil pressure Check: Engine oil pressure optimum  reading হল 10 to 35 psi।এর মাধ্যমে লুব্রিকেন্ট  সিস্টেম  ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা জানা জায়।লুব্রিকেন্ট কালার সঠিক পেতে  লুব্রিকেন্ট ফ্লাশ দিয়ে ফ্লাশ করে নতুন লুব্রিকেন্ট ও ফিল্টার লাগানো যেতে পারে।


    চেছিস ও বডিঃ গাডির মেঝে বা দরজায় কোন ফাটল থাকলে এস এস,এম এস বা এলুমিনিয়ামের পাত দিয়ে মেরামত করা যায়,পাতের থিকনেছ ২২ এম এম অপটিমাম বলা হয়।এক্ষেত্রে  গ্যাস ওয়েলডিং সবচেয়ে উপযোগী।


    ডেনটিং এবং  পেইন্টিংঃডেনটিংয়ের আরেকটি উপায় হল পুটিং ব্যবহার,তবে হাত দিয়ে পুটিং ব্যবহার করা এবং সেন্ডিং করা অনেক ঝামেলার।গ্রিট পেপার ৮০ দিয়ে কিছুটা সহজে সেন্ডিং করা যায়।পেইন্ট Primer দিয়ে কিছুটা সরানো গেলেও পুরোপুরি সরাতে গেলে  হাত অথবা Sander দিয়ে Grit paper ব্যবহার করতে হয়।

    চলমান কালার কোড গাড়ি থেকে বের করতে পারলে গাড়ির সঠিক কালার সহজে পাওয়া যায়।স্প্রে পেইন্টিং দিয়ে পেইন্ট করা গেলেও সঠিক পেইন্টিং নাও হতে পারে।

নিম্নলিখিত ডিভাইসগুলো ডেনটিং এবং পেইনটিংয়ে কাজে লাগেঃ

Body filler or Putting

Grit paper

Grinder with multifunctionality

Sanding/Grinding/Polishing Disk

Paint Spray machine and compressor

Gas welding Set and Gas Bottle

Filler Rod


    গাড়ির ব্রেকঃ হাইড্রোলিক ব্রেকিং সিস্টেমে ব্রেক Fluid খুব দরকারী জিনিস যার মাধ্যমে ব্রেকিং সিস্টেম গাড়ি থামাতে সহায়তা করে , তবে খুব  উঁচু  অথবা নিচু  জায়গায় গাড়ির হ্যান্ড ব্রেক কাজ না করলে গাড়ি হাইড্রোলিক ব্রেকে থামবে না।

    গাড়ির লাইটিংঃ প্রথমে লাইটের ইলেকট্রিক কানেকশন চেক  করে সমস্যা  নির্নয় করতে হবে, পরে প্রয়োজনমত হোল্ডার বা লাইট  পরিবর্তন  করতে হয়।গ্লাস, হোল্ডার বা লাইট মেরামত না করে নতুন লাগানো উওম।

    গাড়ির এসিঃ কম্প্রেশার  চেক করে সমস্যা না পেলে এসি পাইপ, কনডেনসর এবং ইভাপারেটর এসিতে গ্যাস ঢুকিয়ে চেক করা যায়।লিকেজ পেলে পাইপ পরিবর্তন করতে হবে।

গাড়ির লকঃ গাড়ির লকে সমস্যা হলে মেরামতের চাইতে নতুন লক মাপমত লাগালে বেশি দিন টিকে।

    কাগজপত্র ও আইনি বিষয়ঃকরো যদি বিশেষ ক্ষমতা এবং মার্কেট পাওয়ার  না থাকে  তা হলে গাড়ির দরকারি কাগজপত্রের সাথে সাথে গাড়ি কেনার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালিকানা পরিবর্তন করতে হয়, না হলে আইনি জটিলতায় যেমন পরতে হয় তেমন করে গাড়ি বিক্রি করার সময়  বার্গেনিং  পাওয়ার  কমে যায়,সব লোকেশনে বা সবার কাছে গাড়ি  বিক্রি করা যায় না, যার কারনে গাড়ি কম দামে  বিক্রি করতে হয়।


Comments

Popular posts from this blog